চিন্তা ও দর্শন
যে রাষ্ট্রে নাগরিকই হবে ক্ষমতার প্রকৃত উৎস
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সারোয়ার তুষারের চিন্তার কেন্দ্রে রয়েছে একটি নাগরিককেন্দ্রিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র।
দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র
দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র কোনো প্রতীকী স্লোগান নয়। এটি রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো পুনর্বিবেচনা এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব।
এর প্রধান ভিত্তি:
- ক্ষমতার ভারসাম্য
- স্বাধীন ও শক্তিশালী সংসদ
- স্বাধীন বিচার বিভাগ
- কার্যকর স্থানীয় সরকার
- জবাবদিহিমূলক নির্বাহী বিভাগ
- নাগরিকের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা
- স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান
নতুন সংবিধানের প্রয়োজন
বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো নির্বাহী বিভাগের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছে।
নতুন সংবিধান বা মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কারের লক্ষ্য হতে হবে:
- প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার কার্যকর সীমা
- রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য
- সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভূমিকা
- বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা
- সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছ নিয়োগ
- নাগরিক অধিকারের শক্তিশালী সুরক্ষা
- জরুরি ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ
আইনের শাসন
আইনের শাসন মানে শুধু আইন থাকা নয়। আইনের শাসন তখনই প্রতিষ্ঠিত হয়, যখন আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়।
কেউ রাজনৈতিক ক্ষমতা, অর্থ বা প্রভাবের কারণে আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না। একইভাবে কোনো নাগরিককে রাজনৈতিক পরিচয় বা মতের কারণে আইনের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
নিরাপত্তা খাত সংস্কার
নিরাপত্তা সংস্থাগুলো রাষ্ট্র বা সরকারের নয়, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিষ্ঠান।
প্রয়োজন:
- স্বাধীন পুলিশ কমিশন
- গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদে আইনি সুরক্ষা
- হেফাজতে নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা
- গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার তদন্ত
- সংসদীয় ও বিচারিক তদারকি
- রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাহিনী ব্যবহারের অবসান
বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার
ঢাকাকেন্দ্রিক প্রশাসন ও উন্নয়নব্যবস্থা দেশের সব অঞ্চলের মানুষের প্রয়োজন পূরণ করতে পারে না।
স্থানীয় সরকারকে প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও আর্থিক ক্ষমতা দিতে হবে। স্থানীয় জনগণকে নিজেদের এলাকার বাজেট, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং সেবা ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।
অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সীমিত গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হলে তা টেকসই উন্নয়ন নয়।
রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে:
- সম্মানজনক কর্মসংস্থান
- শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি
- শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সমান সুযোগ
- ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা
- বৈষম্য কমানোর কার্যকর নীতি
- দুর্নীতি ও ক্রোনি পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
